লক্ষ্মীপুরে বখাটে শিক্ষকের বিষয়টি ধামাচাপা :  উত্তেজনা চরমে

0
65

সবুজ জমিন : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা কাজির দীঘির পাড় সমাজ কল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে ঐ বিদ্যালয়ের বখাটে শিক্ষক মিজান রহমানকে গণধোলাই দেয় জনতা। প্রধান শিক্ষক মিজান উদ্দিন সহ স্থানীয় মাতাব্বররা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মূহুর্তে আইন শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় করছে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষক মিজান গা ঢাকা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার সকালে ৭নং বামনী ইউনিয়নে কাজির দীঘি বাজারে ।
স্থানীয় এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, বখাটে শিক্ষক মিজানকে গণধোলাই দেওয়ার পরপরই ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে বিদ্যালয় অফিস কক্ষে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোরসেদ চৌধুরী ও স্থানীয় মেম্বার সহ কয়েকজন মাতাব্বর বসে তড়িঘড়ি করে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে । এ বৈঠকে শিক্ষার্থী সহ তার অভিভাবক ও ভখাটে শিক্ষক মিজান উপস্থিত ছিলেন। এলাকাবাসি আরো বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক মিজান চরিত্রহীন, সে আর আগেও অনেক শিক্ষার্থীর চরিত্র হনন করেছে। অভিবাবকরা তাদের মেয়েদের ভবিষৎ এর কথা বিবেচনা করে নিরবে তা সহে গেছেন।

স্থানীয় সুশীল সমাজের ব্যাক্তিগণ বলেন, দেশের প্রচলিত আইননুযায়ী মিজানের বিচার হলে অন্যান্য শিক্ষকরা সতর্ক হয়ে যেত। কিন্তু এখন এই বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করায় অপরাধী পার পেয়ে গেল, অন্যদিকে অপরাধ আরোও বেড়ে চলবে।

শিক্ষার্থী জানান, কাজির দীঘির পাড় সমাজ কল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক মিজানুর রহমান প্রতিষ্ঠিত কোচিং সেন্টারের আন্যন্য শিক্ষার্থীদের ন্যায় তিনি প্রাইভেট পড়তে আসেন। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক মিজান তার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে থাকেন । হাসিয়ে হাসিয়ে খারাপ কথা বলায় কেউ আমলে নেয়নি। ঘটনার দিন তার সাথে থাকা অন্যান্য ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে আমাকে বসতে বললেন। স্যারকে জিঘাংসা করলাম আপনি আমাকে কেন একা বসতে বললেন । জবাবে তিনি বলেন তোমার পড়া আরও বাকি আছে। এই সময় তিনি কুনজরে আমাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করে আমি জোর করে তাকে ধাক্কা মেরে বাহিরে চলে আসি।
শিক্ষার্থী প্রতিবেদককে আরো বলেন, এই বিষয়টি তার বড় ভাইকে অবগত করার পর। বড় ভাই বাজারে গিয়ে অভিযুক্ত মিজানকে বকাবকি করার এক পর্যায়ে স্থানীয় জনতা মিজানকে উত্তম মধ্যম দেয়।
এই সময় শিক্ষার্থী আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন স্যার ও মাতাব্বরগন এই বিষয়ে যে সমাধান দিয়েছেন তাতে সুবিচার পাননি তিনি সুবিচার পাননি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষক মিজান ও শিক্ষার্থীর বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

এই রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার শিপন বড়ুয়া বলেন এই বিষয়ে তিনি অবগত নয়। তবে এই ধরনের বিষয় কোন বৈঠকে সমাধান হয়েছে কিনা তা বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখবে পুলিশ।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ বিষয় নিয়ে স্থানীয় বৈঠককে সালিশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। বিষয়টি গুরুত্বের সহিত ক্ষতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here