প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি : রায়পুরে জমজমাট পশুর হাট

জমিন রিপোর্ট ঃ কঠিন লক ডাউনের মধ্যে সরকারের নির্দেশ অমান্য করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লক্ষ্মীপুরে রায়পুর উপজেলা ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মোল্লার হাট বাজারে শনিবার ও মঙ্গলবার কোরবানির পশুর হাট বসিয়েছে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ এর ছেলে জাহাঙ্গীর ও দিদার। কোরবানির হাট থেকে প্রতি গরু থেকে হাসিল উঠানো জন্য ৩০ হতে ৪০ জন দালালকে নিয়োগ দেয়েছে তারা। এরা সরকারী কর্মকর্তাকে বোকা বানাতে একই বাজারে দুটি হাট বসাই। একটি হলো ইউনিয়ন পরিষদের সামনে, আরেকটি বালু ঘাট বড় রাস্তায়। সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হানা দিলে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গরু সরিয়ে নেয় ব্যবসায়ীরা। এ দিকে ম্যাজিষ্ট্রেট এর চোখ ফাঁকি দিয়ে বালুর ঘাটে রাস্তায় জমজমাট পশুর হাট বসায় দিদার ও জাহাঙ্গীর। স্থানীয়রা বলছেন প্রশাসনের লোক আসে আর যায়, কোন ব্যবস্থা কিংবা জরিমানা কিছুই করছেনা। এরা কেন আসে কেন যায় বুঝা মুশকিল।
শনিবার ১০ জুলাই বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে ওই হাটে গেলে দেখা যায়, চলছে জমজমাট পশুর হাট  । সামাজিক দূরত্ব ও মুখে মাস্ক পরার কোনো বালাই নেই। হাজার হাজার মানুষের সমাগম হচ্ছে ওই পশুর হাটে। এছাড়া সেখানে হাটবার হিসেবে বিভিন্ন পণ্যের বাজারে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ করা যায়। সচেতন মহল। এদিকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা কয়েকবার অভিযান চালিয়ে পশুর হাট ছত্রবঙ্গ করে দিলেও কিছুক্ষণ পর পূনরায় গরুর হাট মিলিয়ে পেলে ব্যবসায়ীরা। প্রতিটি গরু থেকে হাসিল বাবত নেওয়া হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা।
অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মোল্লার ছেলে জাহাঙ্গীর ও দিদার হোসেন এই পশুর হাট বসিয়েছে। তাদের রয়েছে ৩০ হতে ৪০ জন দালাল। এসব দালালদের কাজ হলো প্রতিটি গরু বিক্রয় হওয়ার পর ক্রেতা থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা হাসিল জোর করে আদায় করে।

সুশীল সমাজ ব্যক্তিরা বলছেন কোরবানির হাটকে ঘিরে চলে বড় ধরনের বাণিজ্য৷ এরসাথে এরা  জড়িত৷ হাটের ইজারা, হাসিল, গরুর ট্রাক বা ট্রলার থেকে চাঁদা আদায়ে রশিদ মোল্লার ছেলেরা  জড়িত থাকেন৷ হাট না বসলে বা কম বসলে তাদের আয়ে টান পড়বে৷ তাই হাট বসানোতে আগ্রহ রশিদ মোল্লার ছেলেদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিদার হোসেন সাংবাদিককে বলেন মিডিয়ার বিষয় ডিল করে তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে জাহাঙীর প্রতিবেদককে বলেন, এখন ব্যস্ত সময় পার করছি পরে ফোন দিব।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, লক ডাউনে মধ্যে কাউকে পশুর হাট মিলাতে দেওয়া হবে না। যারা এই সব হাট বসাই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।