কিশোরীকে  ধর্ষণের দায়ে দুই ভাই গ্রেফতার 

 

সবুজ জমিন :  ঢাকার খিলগাও বাগিচা এলাকায় ১৪ বছরের এক গৃহকর্মী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২৪ এপ্রিল শাহজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এতে দুই ভাইকে শনিবার রাতেই পুলিশ গ্রেপ্তার করে পরদিন রোববার আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত একদিনের রিমান্ড মন্জুর করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রুহিতা ইউনিয়ের চল মন্ডল গ্রামের সুলতান দরবেশ বাড়ির মৃত হাসানুজ্জামানের পুত্রদ্বয় মোঃ হেলাল খান (৩৫) ও মোঃ আরিফ খান (২০) এবং “অভিযুক্ত” দুই ভাই ঢাকার ২৮৭/সি খিলগাও পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন মা অটো এসি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভাড়াটে বাসায় বসবাসকারী।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাসের ৬ তারিখ বিকেলে বাসায় কেহ না থাকার সুযোগে গৃহকর্মী কিশোরী (১৪) কে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রথমে “অভিযুক্ত” ছোট ভাই মোঃ আরিফ হোসেন জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং কাউকে না জানানোর ভয়ভীতি দেখায়। পরে ১৩ এপ্রিল সকালে রান্নাঘরে কাজ করাকালীন সময়ে কিশোরীটিকে “অভিযুক্ত” বড় ভাই মোঃ হেলাল খানও ধর্ষন করতে থাকলে সে চিৎকার দিলে অন্য রুম থেকে হেলালের স্ত্রী লাইজু আক্তার সেখানে গিয়ে গৃহকর্মী কিশোরীকে উদ্ধার করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে “অভিযুক্ত” হেলাল খান তাদের (স্ত্রী ও গৃহকর্মী) কে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয়। এতে তারা নিরুপায় হয়ে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় বাদীর গ্রামের বাড়ীতে চলে এসে উভয় পক্ষের আত্মীয় স্বজনকে লোমহর্ষ এ বিষয়গুলো জানালে সবাই আইনি পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেয়।

এব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজানপুর থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক জব্বার হোসেন মুঠোফোনে দৈনিক জনতাকে বলেন, আসামীদ্বয়কে গ্রেপ্তার করে আদালতে নিয়ে রিমান্ড চাওয়া হলে আদালাত একদিনের রিমান্ড মন্জুর করেন। অচিরেই আসামীদের রিমান্ড জিজ্ঞাসা শুরু হবে। ভিক্টিমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, ভিক্টিমের চলমান যথাযত চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষ হলে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রেরণ করে বিচারকের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দী নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহজানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শহিদুল হক মুঠোফোনে দৈনিক জনতাকে বলেন, গৃহকর্মী কিশোরীকে ধর্ষনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ এর ৯(১) ধারায় মামলা নং১৭ থানায় রুজু হওয়ার পরে আমরা উভয় আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। ভিক্টিম কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।