নিরব প্রশাসন : লক্ষ্মীপুরে কৃষি জমির টপ সয়েল বিক্রির ধুম

সবুজ জমিনঃ

লক্ষ্মীপুরে উর্বর দুই / তিন ফসলি জমির টপ সয়েল (জমির উপরি ভাগের মাটি) কাটার ধুম পড়েছে।

আর্থিকভাবে সাময়িকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় জমির মালিকরা কৃষি জমির উপরি ভাগের উর্বর মাটি বিক্রয় করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে কৃষকের মাথায় হাত। তারা ভয়ে কিছুই বলতে পারছেনা কারণ প্রকৃত কৃষকরা জমির মালিক নয়। প্রকৃত জমির মালিক কৃষককে ৫ বছরের জন্য ইজারা দেয় কিংবা কট দেয় ।

জমির মালিকরা প্রভাবশারী হওয়ায় তাদের জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাপক হারে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় অসহায় কৃষক।

জেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ অঞ্চলের অধিকাংশ জমিই উর্বর পলি মাটি সমৃদ্ধ। এসব জমিতে বছরে দু’টি মৌসুমে ধান, সরিষা, রসুন ও শীতকালীন সবজি ব্যাপকভাবে উৎপাদন হয়। কিন্তু কিছু অসাধু মাটি ব্যবসায়ী কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এসব জমির টপ সয়েল কিনে নিচ্ছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৩নং দালাল বাজার ইউনিয়ন, ২নং দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়ন, ১নং উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে দুই বা তিন ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বড় বড় ট্রাকে এসব মাটি পরিবহনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তাঘাটও। নানা দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে এসব রাস্তায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় কিছু মাটি ব্যবসায়ী প্রতি বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে এপ্রিল পর্যন্ত মাটির ব্যবসা করেন। তারা কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে জমির এক থেকে দেড় ফুট মাটি কিনে নিয়ে চড়া দামে ইটভাটায় বিক্রি করেন। এছাড়া বাড়ি তৈরিতে মাটি ভরাট প্রয়োজন হলেও অনেকে এসব মাটি ব্যবসায়ীর দ্বারস্থ হন। অল্প সময়েই মাটি ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা রোজগার করেন।

এ বিষয়ে কথা হয় সদর উপজেলা কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে। তারা জানান, জমির উপরের অংশ থেকে দু-এক ফুট পরিমাণ মাটি বিক্রি করার কারণে তারা কৃষি কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

কথা হয়, মাটি ব্যবসায়ী ৪নং চররহিতা ইউনিয়নের আলমগীর সিরা, ২নং দক্ণি হামছাদি ইউনিয়নের জাপর সাথে তারা বলছেন, দিন ধরেই মাটি কেনাবেচার ব্যবসা করছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে জমিতে পলি পড়ে পড়ে উঁচু হয়ে যায়। ওই উঁচু জমি থেকে মাটি কেটে জমির মালিক উপকারই করছেন।
দক্ষিন হামছাদি ইউনিয়নে পরিষদ চেয়ারম্যান মীর মাহ আলম বলেন, যারা কৃষি জমির উপরি ভাগের জমি বিক্রয় করছে তাদের কে একাধিক বার বাধা দেওয়া হয়েছে। তারা কোন কিছুই তোয়াক্কা করছে না।

৪নং চর রহিতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির পাটওয়ারী বলেন কয়েকবার পাওয়ার টিলার গাড়ী আটকানো হয়েছে তারা বলছে আর মাটি কাটবে না কিন্তু দেখা গেছে পরবর্তীতে তারা আবারো একই ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান ইমাম জানান, মাসিক মিটিং এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে প্রতিটি ইউনিয়নে জন প্রতিনিধি ও কৃষি প্রতিনিধি রয়েছে সবাই যদি যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে কৃষি জমি মাটি কোন ভাবে কেই ক্রয় বিক্রয় করার সুযোগ নেই।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুম বলেন, এই বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনেকদিন ধরেই জমির টপ সয়েল কাটা হচ্ছে। গত সপ্তাহে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টপ সয়েল কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। তারপরও গোপনে মাটি বিক্রি করছেন কৃষকেরা। এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।