নারীরা অফিস ও পরিবারকে সামলায় : নারীরাই বেশি যোগ্য

সবুজ জমিন : নারীদিবস নিয়ে প্রচুর লড়াই, তর্ক চলতে পারে । আলোচনা হতে পারে । কিন্তু আমার মনে হয়, মূল সমস্যার সমাধানের জন্য মায়েদের এগিয়ে আসতে হবে । ছেলের মায়েদের । ছোট থেকে ছেলেকে শেখাতে হবে, মেয়েদের সম্মান করতে হয় । মেয়েদের ইচ্ছে করলেই অসম্মান করা যায় না । সবচেয়ে বড় কথা, মেয়েদের মেয়েমানুষ করে রাখা যায় না । তারাও মানুষ । শুধু মানুষ । মেয়েমানুষ নয়…। আমি বিশ্বাস করি মেয়েরা যে কোনো বিবেচনায় ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে । নারীরা অনেক বেশি দায়িত্বশীল, সময়ানুবর্তি, সৃশৃঙ্খল, মানবিক ও মমতাময়ী । একটা ছেলে শুধু একটাই চাকরি করে । আর কর্মজীবী নারীরা একসঙ্গে অফিস সামলায়, ঘর সামলায়, সন্তানের দেখাশোনা করে ।

মন থেকে পুরুষতন্ত্রের জগদ্দল পাথরটা সরিয়ে একটু চারপাশে তাকান, আপনিও মানবেন নারীরাই বেশি যোগ্য, বেশি দায়িত্বশীল । এখন আর ছেলেদের পেশা, মেয়েদের পেশা বলে আলাদা কিছু নেই । সুযোগ পেলে মেয়েরা সবক্ষেত্রেই নিজেদের সক্ষমতার, সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেছেন । ট্রেন থেকে বিমান সবকিছুই চালাতে পারে নারীরা, পারে দেশ চালাতেও । শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নন, বিশ্বের যেখানেই নারীরা সুযোগ পেয়েছেন, দারুণভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন । জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বা নিউজিল্যাণ্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অর্ডানের উদাহরণ তো চোখের সামনেই ।

সমানতালে লড়ার জন্য কন্যাশিশুদের শুধু দরকার সুযোগ । অন্তত লড়াইয়ের ময়দান পর্যন্ত যাতে যেতে পারে ।
প্রিয় অভিভাবক, আপনি নিজে দায়িত্ব আপনার কন্যাকে লড়াইয়ে পাঠান । আপনার এত প্রিয় কন্যা, আপনিই যদি তার সাথে বৈষম্য করেন, তাকে বোঝা ভাবেন; সমাজ-রাষ্ট্র আর আমাদের মগজে গেঁথে যাওয়া পুরুষতন্ত্র তো তার জীবন অসহনীয় করে তুলবে । তখন কেমন লাগবে আপনার ? কন্যার জন্য চোখের পানি ফেলে আর লাভ হবে না । কারণ কন্যার এই পরিণতির জন্য আপনিই দায়ী । তাকে ঠিকমত পড়াশোনা করার সুযোগ দেননি, নিজের পায়ে দাড়ানোর আগেই বিয়ে দিয়ে বিদায় করেছেন । এখন কেঁদে কেটে লাভ হবে না । অনেকেই মেয়েকে কোনোরকমে বিয়ে দেয়ার মত করার জন্য পড়ান । আর সব বিনিয়োগ করেন ছেলে সন্তানের পড়াশোনার পেছনে । ভাবেন, ছেলে বড় হয়ে সংসারে হাল ধরবে, বাবা-মাকে দেখে রাখবে ।

কিন্তু সবসময় তা নাও হতে পারে । সব সঞ্চয় বিক্রি করে ছেলেকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠালেন, সে হয়তো আর ফিরলোই না । আপনার শেষ আশ্রয় হবে বৃদ্ধাশ্রমে । দেশে থাকা ছেলের সংসারে বাবা-মায়ের অনাদর-অবহেলা জোটার উদাহরণ ভুরি ভুরি । কিন্তু কন্যার সামর্থ্য যেমনই হোক, কখনো বাবা-মাকে ফেলে দেয় না ।

প্রিয় অভিভাবক, সন্তান ছেলে হোক আর মেয়ে হোক, আপনার জন্য সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ । তার প্রতি সুযোগে, সম্পদে বৈষম্য করবেন না । তাকে সুযোগ দিন লড়াইটা করার, নিজেকে প্রমাণ করার ।
মোদ্দাকথা প্রতিদিন সকল পরিমন্ডলে সকল নারীর প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ ভালোবাসা বজায় থাকা হোক নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ও অঙ্গীকার !

বর্তমান সরকারের নারী শিক্ষার গুরুত্বারোপ – বাল্যবিবাহরোধ- কর্মসংস্হান ও পদায়নে নারীর ক্ষমতায়নের অগ্রযাত্রার সাফল্য কামনা করছি ।