লক্ষ্মীপুরে চাঁদা না দেওয়ায় খড়ের গাঁদায় আগুন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : ‘দুর্গাপুর আমার এলাকা। এখানকার রাস্তাঘাট সব আমার। গ্রামে খামার ও রাস্তাঘাট ব্যবহার করতে হলে টাকা (চাঁদা) দিতে হবে। না হয় কোন খামার হবে না এই দুর্গাপুরে। আমি এখানকার জনপ্রতিনিধি ও যুবলীগ নেতা।’ কথাগুলো সাত্তার এগ্রো খামারের মালিক এর শ্রমিক জাহিদকে এভাবেই বলেছেন লক্ষ্মীপুরের দিঘলী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) মো. মঞ্জু।

স্থানীয়রা জানান, দিঘলীর দুর্গাপুর গ্রামে ৩ একর জমির উপর একটি খামার করেছি। সেই খামারের জন্য গাড়িতে করে খড় কিনে এনেছি। তাতে এলাকার কারো কোন সমস্যা হয়নি। তবুও স্থানীয় ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা গত ৫ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) আমার খামারে আসে। তখন সে দুই লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে, তাৎক্ষনিক তিনি খড়ের গাঁদায় আগুন লাগানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয়রা থাকায় সেটি আর সম্ভব হয়নি। পরে ২৪ ঘন্টার মধ্যে দাবিকৃত টাকা দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন। যুবলীগ নেতার বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দাবিকৃত টাকা না দেওয়ার, পরেরদিন রাতে খড়ের গাঁদায় আগুন লাগিয়ে দেন। এতে ৩ লাখ টাকার খড় আগুনে পুড়ে যায়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার অজ্ঞত নাম উল্লেখ করে ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত করে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মঞ্জু বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত চাঁদার অভিযোগ সত্য নয়. তবে রাস্তা টলি চালানো যাবেনা এই কথা বলে বাউডিারির ভিতরে গিয়ে গ্যাস লাইট দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকী বিষয়টি স্বীকার করে বলেন এটি ছিল শয়তানি। তবে পরে দিন রাত ১০টায় যখন খড়ের গাঁদায় আগুন লাগে তখন তিনি একটি সালিসে ছিলেন।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ।