পাপুল থেকে ৯ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা মেয়র খোকন

বিশেষ প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর রায়পুর ০২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম পাপুলের কাছ থেকে ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ভাবে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রাই ৮কোটি ৭৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫৯০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র ইসমাইল হোসেন খোকনের এর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয় নিয়ে মাঠে অনুসন্ধানে কাজ করছে দুদক।
রায়পুর উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের দাবি, তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে পাপুল সাহেব থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন মেয়র ইসমাইল হোসেন খোকন।


এ দিকে সাংসদ পাপুলের এক বিশ^স্ত সুত্র প্রতিবেদককে জানান, ইসমাইল হোসেন রায়পুর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সুবাধে কাজী সহিদুল ইসলাম পাপুলের সাথে সম্পর্ক হয়। গত ২০১৭ সালে পাপুল সাহেব নৌকার টিকিট নিয়ে এলাকার সংসদ সদস্য হওয়া এবং রায়পুরের উন্নায়ন মূল্যক কাজ করার কথা ব্যক্ত করিলে মেয়র খোকন তাকে একটি নীল নকশা দেখান। এতে স্থানীয় ভাবে খরচ হবে প্রায় ২০ কোটি টাকা। মেয়র খোকনের এই টাকার প্রস্তাবে দলের উন্নায়নে পাপুল এমপি তা সমর্থন করেন। এরপর মেয়র খোকন দলের প্রলোভন দিয়ে পাপুল এমপির থেকে টাকা নিতে থাকে । একপর্যায়ে স্থানীয় আওয়ামী নেতাকর্মীরা পাপুল সাহেবের সাথে দেখা করলে উক্ত নেতাকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, মেয়র খোকন বেশীর ভাগ টাকা নিজেই পকেটস্থ করেন। এরপর পরই পাপুল সাহেব তাঁর বিশ^স্ত লোক দিয়ে সরোজমিনে গোপনীয় ভাবে তদন্ত করেন, টাকা আত্মাসাতের ব্যাপক প্রমাণ মিলে খোকনের বিরুদ্ধে। চৌকস মেয়র খোকন বিষয়টি টের পেয়ে সাংসদ পাপুলে সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে লাপাত্তা হয়ে যান।

এরপর থেকে মেয়র খোকন বিকল্প পথ হিসেবে উক্ত সাংসদ কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেন।
মেয়র ইসমাইল হোসেন খোকনের এহেন কর্মকান্ড ও চরিতার্থের কারণে গত ৫ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে রায়পুর পৌর মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করিলে আওয়ামী তৃণমূলের ভোটে তার ভরাডুবি ঘটে।
আওয়ামী তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের জানান, ইসমাইল হোসেন খোকনের বাপের বাড়ী স্থায়ী ভাবে ফরিদগঞ্জ উপজেলা। রায়পুরে প্রতাপশালী চৌধুর পরিবারে বিয়ে করার সুবাধে ও লক্ষ্মীপুর পৌর মেয়রের ভায়রা হওয়ার সুবাধে তার কপাল খুলে যায়। তাঁর ভায়রা ততকালে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় খোকন বনে যায় রায়পুর আওয়ামী লীগের হাইব্রীড নেতা। ভায়রার হস্তক্ষেপে ততকালে জেলা উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের ৬টি ভোট নিয়ে পেয়ে রায়পুর পৌর মেয়রের নৌকার টিকেট নিশ্চিত করেন। আর ঠেকায় কে এই হাইব্রীড নেতাকে। পিছনে তাকতে হয়নি তার। পৌর মেয়রের সুবাধে ত্যাগী নেতাকর্মীদের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে নিজেই বনে যান অঢেল সম্পত্তির মালিক।
তৃণমূলের নেতারা আরো বলেন, পুর্ব পুরুষ থেকে আমরা আওয়ামী লীগ করে কিছুই বানাতে পারিনি। জামাত বিএনপির মামলা হামলায় খোড়াতে হয়েছে বাপ-দাদার বসত ভিটি। অথচ উড়ে এসে জুড়ে বসে আমাদের মগজে। তার এই কু কীর্তির কারণে গত ৫ ডিসেম্বরে ২০২০ সাল সঠিক জবাব দিয়েছে তৃণমূল ভোটের মাধ্যমে।

এ বিষয়ে মুঠো ফোনে ইসমাইল হোসেন খোকন প্রতিবেদককে বলেন, কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল আমার একাউন্টে টাকা দিয়েছে, সেই টাকা সাংগঠনিক কাজে ব্যয় করা হয়েছে। টাকা আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তেলে বেগুনে চেটে গিয়ে মুঠোফোন কেটে দেন।