লক্ষ্মীপুরে ৬০০ টাকার এলপিজিগ্যাস ১০০০ টাকা

>> সরকারি এলপিজি ৬০০, বেসরকারি মূল্য ৯০০-১০০০ টাকা
>> মূল্য নিয়ন্ত্রণে নেই কোনো কার্যকর ব্যবস্থা, নীতিমালাও নেই
>> এমআরপি না থাকলে আইনি ব্যবস্থা : ভোক্তা অধিকার

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত শেষ হয়ে আসছে। এ কারণে কয়েক বছর ধরে আবাসিক গ্রাহকদের নতুন গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে না সরকার। আবার যাদের সংযোগ আছে তারাও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পান না। ফলে দৈনন্দিন রান্না মেটাতে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ সুযোগে গ্রাহকের কাছ থেকে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ইচ্ছা মতো আদায় করছে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। মূল্য নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় এ খাতে চলছে ‘নৈরাজ্য’, বাড়তি মূল্যে বিপাকে ক্রেতা ও সাধারণ মানুষ!

 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, সাড়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি মূল্য ৬০০ টাকা। এটি সরকারের নিজস্ব উৎপাদিত এলপিজি মূল্য। কিন্তু বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে বসুন্ধরা, ওমেরা, বেক্সিমকো, পেট্রোম্যাক্স, টোটাল, বিএম এলপি গ্যাস, এনার্জিপ্যাকের জি গ্যাস, লাফ্স গ্যাস, ইউরোগ্যাস, ইউনিভার্সাল, যমুনা ও সেনা এলপিজি। এসব প্রতিষ্ঠান বিপিসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বেশি দামে অর্থাৎ ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি করছে এলপিজি। এমআরপি অর্থাৎ সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উল্লেখ না থাকায় ইচ্ছা মতো মূল্য আদায় করছে তারা।

লক্ষ্মীপুরের খুচরা এলপিজি বিক্রেতারা জানান, একটি এলপিজি কেনা পড়ে ৮৫০ টাকায়। বিক্রি হয় ৯০০ টাকায়। বাসায় পৌঁছে দিলে ৯৫০ থেকে এক হাজার টাকা নেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান  বলেন, আমরা ভোক্তাপর্যায়ে যে এলপিজি ৭০০ টাকা ছিল সেটি কমিয়ে ৬০০ টাকা করেছি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ৬০০ টাকা নিচ্ছি, তারা ৯০০ টাকা নিচ্ছে কেন— এটা তারাই ভালো বলতে পারবে। তবে আমি মনে করি, এখন ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির দাম কমানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এখন কম।’

 

 

 

 

লক্ষ্মীপুরের আব্দুর রহিম  বলেন,  প্রতি মাসে দুটি এলপিজি সিলিন্ডার লাগে। প্রতিটি সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার বাসায় দিয়ে যায়, এক হাজার টাকা নেয়। সরকার ৬০০ টাকায় দিচ্ছে কিন্তু আমরা তো পাই না। আমাদের এক হাজার টাকা দিতে হয়। গত পরশু সিলিন্ডার নিলাম। এক টাকাও কম নিল না। একটি সিলিন্ডারে ৪০০ টাকা বৈষম্য! আমাদের সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে, দেখার যেন কেউ নেই!

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক (উপ-সচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার এ প্রসঙ্গে জাগো নিউজকে বলেন, ‘একেক জায়গায় একেক মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির কথা শুনছি। আইন অনুযায়ী এলপিজি সিলিন্ডারের গায়ে মূল্য লেখা বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে অধিদফতর ঢাকাসহ সারাদেশে অভিযান চালাচ্ছে। এলপিজির গায়ে খুচরা মূল্য বা এমআরপি না থাকলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। এছাড়া গ্যাস কম দিয়ে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে কি-না, সেই বিষয়েও আমরা তদারকি করছি। ইতোমধ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে বেসরকারি সংস্থা ‘নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ’-এর প্রধান নির্বাহী কামরুজ্জামান বাবলু জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, ভোক্তারা যেন ন্যায্য মূল্যে পণ্য বা সেবা পায়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা সামাজিক আন্দোলন করছি। এলপিজি নিয়ে দেশে একটা নৈরাজ্য চলছে। যে যার ইচ্ছা মতো দাম হাকাচ্ছে। ভোক্তার স্বার্থে এটি বন্ধ করা জরুরি। আমরা চাই, সরকার সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি ৬০০ টাকা নির্ধারণ করেছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও যেন একই দামে বিক্রি করে এবং সেটা নিশ্চিতে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে— এটাই প্রত্যাশা