লক্ষ্মীপুরে কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা কম, খামারিরা হতাশ

সবুজ জমিন : লক্ষ্মীপুরে কুরবানীর পশুর হাটে ক্রেতা কম, খামারিরা হতাশ
ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত কুরবানীর ঈদের বাকি আর কয়েকদিন। এর পরেও জমে উঠে গরুর বাজারগুলো। বাজারে দর্শনার্থী থাকলেও ক্রেতা নেই। পশুর দাম স্বাভাবিক হলেও বিক্রি না হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা। আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় লক্ষ্মীপুর পৌর সভা গরুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, গরু সংখ্যা বেশী হলেও ক্রেতা একবারে কম।  ক্রেতা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান  প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট রাসেল মাহমুদ মান্না ও সানু প্রফেসার একটি গরু দর নিয়ে কষাকষি করছেন বিক্রয়তা মফিজ উল্যা বলছেন ১৮টি গরু নিয়ে বেশ বিপাকে আছেন তাই এই একটি গরু এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা হলে বিক্রয় করে দিবেন।

এডভোকেট রাসেল মাহমুদ মান্না সবুজ জমিনকে বলছেন গরুর বেপারিরা গত বাজারের চেয়েও আজকে গরুর দাম অনেক বেশী। এতো বেশী দাম চাইলে গরুতো বেচাকিনা কম হবেই।

সাধারণ মানুষ বলছে, করোনাকালীন সময়ে আর্থিক সঙ্কটে থাকায় অনেকের কুরবানী দেওয়াটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আর বিক্রেতারা বলছে, কুরবানীর পশু বিক্রি করতে না পারলে তাদেরকে আর্থিক লোকসানে গুনতে হবে। একইভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গরু বাজার ইজারাদারেরা।
এদিকে, করোনা মহামারির কারণে বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের সরকারী নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না ক্রেতা ও বিক্রতার ইজাদারেরা ।
লক্ষ্মীপুর জেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট পৌরসভার বেড়ির মাথা এলাকায়। পৌর কর্তৃপক্ষ বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার এবং রবিবার এ হাটে গুরু বেচাকেনা হয়। তবে কুরবানীর ঈদকে কেন্দ্র করে জমজমাট থাকতো জেলা শহরের বৃহৎ এ হাটটি। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।
রবিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারে গরু থাকলেও তেমন একটা বিক্রি হচ্ছে না। তবে লোকজনের সমাগম দেখা গেছে।এছাড়া করোনাকালীন সময়ে সামাজিক দূরত্ব বাজায় রাখার জন্য সরকারী নির্দেশনা দেওয়া থাকলেও ক্রেতা বা বিক্রেতাদের তা মানতে দেখা যায়নি। জড়োসড়ো হয়ে পশু যাচাই বা দরদাম করতে দেখা গেছে তাদের। মাস্কও ব্যবহার করেনি অনেকে।পশু ক্রয়ের বিষয়ে ক্রেতারা বলছেন, দরদাম যাচাই করে আরও কয়েকদিন পর তারা পছন্দের পশুটি কিনবেন।গরু দেখতে আসা আবদুল মান্নান জানান, তিনি গরুর দাম দেখতে এসছেন। তবে এখনো কেনার সিদ্ধান্ত নেননি। একদিকে বর্ষা মৌসুম, অন্যদিকে গো-খাদ্যের সঙ্কট। তাই ঈদের খুব কাছাকাছি সময়ে তিনি গরু কেনার চিন্তা করছেন।

সদর উপজেলার চররুহিতা এলাকার গরুর ব্যবসায়ী বাবুল জানান, তিনি কুষ্টিয়া থেকে বড় আকারের ১০ টি গরু বিক্রির জন্য এনেছেন। গরু প্রতি তার খরচ হয়েছে এক লাখ ২০ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। গত কয়েকদিন থেকে বিভিন্ন বাজারে গরুগুলো উঠিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জেলা শহরের বেড়ির মাথা গো-হাটাতেও তিনি গরুগুলো নিয়ে আসেন। কিন্তু এ পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারেন নি তিনি। ক্রয় মূল্যের চেয়েও কম দামে মূল্য হাকাচ্ছেন ক্রেতারা।
খোরশেদ আলম নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘৭২ হাজার টাকায় আজ একটি গরু বিক্রি করেছি। কিন্তু গরুটি ৭৫ হাজার টাকায় কিনি। গরুর পেছেনে আরও তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ক্রেতা না থাকায় লোকসান দিয়ে গরু বিক্রি করেছি।
ব্যবসায়ী হাসানুজ্জামান বলেন, ‘বাজারে দেশী গরুর চেয়ে ভারতীয় গরু বেশি থাকায় দাম পাওয়া যাচ্ছেনা। সরকার যেন ভারতীয় গরু আসা পুরোপুরি বন্ধ রাখে। তা না হলে দেশি গরুর খামারী এবং ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের মুখে পড়বে।’
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন শাহী বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার গরু বিক্রি একদম কম। করোনাকালীন আর্থিক সঙ্কটে অনেকেই এবার হয়তোবা কুরবানী দিতে পারবে না। আবার যারা একাই একটি গরু কুরবানী দিতো তারা এবার ভাগে কুরবানী দিবে।’
গরু বাজারে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পৌরসভার পক্ষ থেকে হাটে আসা লোকজনকে মাইকে সচেতনতার জন্য বলা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ সচেতন না হওয়ায় স্বাস্থ্য বিধির বিষয়টি পুরোপুরো রক্ষা করা যাচ্ছে না।’পৌর গরু বাজারের ইজারাদার মো. মনির হোসেন বলেন, ‘বাজারে গরুও কম, ক্রেতাও কম। গেল ঈদের এ সময়টাতে প্রচুর গরু বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এবার বেচাবিক্রি একদম কম। তাই ইজারার টাকা উঠাতে কষ্ট হবে।’ তিনি বলেন, ‘ক্রেতা-বিক্রেতা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সে অনুরোধ করা হয়েছে। এজন্য সেচ্ছাসেবী সদস্যরাও কাজ করছে।’ তিনি জানান, বাজারে নিবিঘ্নে যেন পশু ক্রয়-বিক্রয় করা যায় সেজন্য গোয়েন্দা পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে।