রায়পুরে ইউপি চেয়ারম্যান নাছিরের বিরুদ্ধে সদস্যদের অনস্থা :ডিসি বরাবর অভিযোগ

সবুজ জমিন  :লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৯নং দক্ষিন চর আবাবিল ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে পরিষদের সদস্যরা তার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন বেপারীর বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে। তিনি বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ ভিজিএফ ভিজিডি এলজিএসপি প্রকল্প,৪০দিনের কর্মসূচি, হতদরিদ্রদের বরাদ্দ, কাবিখা প্রকল্প, ওয়ান পার্সেন্টসহ প্রত্যেক খাতে অনিয়ম করেন বলে পরিষদের সদস্যরা জানান।

অধিকাংশ পরিষদ সদস্য জানান, আমরা তার অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারি না। কিছু বলতে গেলেই তিনি আমাদের উপর চড়াও হন।জানা গেছে চেয়ারম্যানের এসব দূর্নীতি-অনিয়ম অর্থ আত্মসাৎ স্বজনপ্রীতিসহ স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে পরিষদের অধিকাংশ সদস্য সদস্যারা মিলে অভিযোগ এনে জেলা প্রসাশকের কাছে দরখাস্ত করেন। পরিষদ সদস্য খোরশেদ আলম,শাহআলম, মুসলিম, হারুন মিজি, বুলবুল, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা-মরিয়ম বেগম, ফিরোজা বেগমসহ সদস্যবৃন্দ।

জেলা প্রসাশক বরাবর আবেদনে তারা সর্বমোট ২২টি দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা তুলে ধরেন।তার মধ্যে কর আদায়কৃত অর্থ আত্মসাৎ, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ১% উন্নয়ন খাতের ৩.০০০০০(তিন লক্ষ)টাকা, ৪ ও ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য ভাতার বৃহৎ অংশ আত্মসাৎ, ৭ নং ওয়ার্ডের ভিজিডি কার্ডের সদস্যদের চাউল আত্মসাৎ, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্যদের বাদ দিয়ে বেনামে প্রকল্প কমিটি করে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন পুর্বক আত্মসাৎ, দরিদ্র বিমোচনে খাল পুনঃ খনন,পানি নিস্কাসনের একাধিক প্রকল্প থেকে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ, ৯নং ওয়ার্ড বিজিডি কার্ড দুর্নীতি, চেয়ারম্যান পুত্র ফয়সলের নামে ন্যায্য মুল্যের চাউলের ডিলারশীপ দিয়ে দুর্নীতি করার অভিযোগে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে ধৃত হয়ে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা প্রদান,পরিষদের মাত্র তিনজন সদস্যকে পর্যায়ক্রমে সকল ওয়ার্ডের প্রকল্প কমিটির সভাপতি দেখাইয়া ৯টি ওয়ার্ডের প্রকল্প সম্পাদনে টাকা উত্তোলন,অসহায় ভুমিহীনদের মাঝে সরকারী গৃহনির্মাণ প্রকল্পের প্রতিটি ঘর বাবদ প্রত্যেকের নিকট হইতে বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া সহ আরো বিভিন্ন অভিযোগ এনে সুস্হ তদন্ত সাপেক্ষে তাঁরা চেয়ারম্যান নাছির বেপারীর পদ ত্যাগ দাবী করেন।

 

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান নাছির ব্যাপারী প্রতিবেদককে জানান, এখন ইউপি নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে একটা পক্ষ পরিষদের কিছু সদস্য দিয়ে  আমার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র শুরু করছে। ছেলে ফয়সালের বিষয়ে তিনি বলেন ৩০ কেজি চাউলের মধ্যে ২৯ কেজি দেওয়াতে একটি চক্র ইউ এনও সাহেবকে দিয়ে ৫০,০০০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।