লক্ষ্মীপুর আদালতের আদেশের পূর্বে  জমি জবর-দখল করছে মামলার বাদী

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : গ্রাম্য আদালতের চূয়ান্ত আদেশকে উপেক্ষা করে লক্ষ্মীপুর আদালতে মামলা করে আদেশের পুর্বেই লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় জোর-পূর্বক জমি জবর দখল করে সীমানা বেড়া দেওয়া চেষ্টা করছে বলে মামলার বাদী আবুল কাশেম গংদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন আবুল খায়ের, সেলিম, সিরাজ। এসময় বাধা দিলে তিনজনকে বেদম প্রহার করে আবুল কাশেম এর ছেলে জামাল-কামাল-ঝাকের হোসেন সহ একদল উশৃংখল যুবক। আহতরা হলেন লিমা আক্তার, আয়েশা বেগম, মো: ইমরান। ২৯ মে ২০২০ইং শুক্রবার দুপুর ১২ঘটিকায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ১২নং চরশাহী ইউনিয়নে জালিয়া কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
সরোজমিনে গেলে প্রতিদেককে আবুল খায়ের জানান , ইউনিয়ন পরিষদের রায় এবং গ্রামের শালিশ নামা চূয়ান্ত রায় উপেক্ষা করে বাদি হয়ে লক্ষ্মীপুর আদালতে মামলা করে আবুল কাশেম। আদালতের চূয়ান্ত আদেশের পুর্বেই একতরফা জোর পূর্বক লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে তাদের চার ভাইয়ের জমি বেদখল করে সীমানা দেওয়ার চেষ্টা করিতেছে মামলার বাদী আবুল কাশেম গং। এতে বাধা দিলে আবুল কাশেমের ছেলে জামাল ও কামাল দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সেলিমের ছেলে মেয়েকে বেদম মারধর করে। এসময় মনির কে প্রাণে মেরে ফেলে লাশ গুম করে ফেলবে বলে হুমকী প্রদান করে আবুল কাশেমের ছেলে জামাল। মনির আরো বলেন, আমাদের উপর যখন তারা হামলা করে তখন আমাদের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে জড়ো হয় এসময় স্থানীয় এলাকাবাসীর সামনে জামাল আমাকে হত্যা করে আমার লাশ গুম করা হুমকী দেয় ।

আবুল খায়ের সাংবাদিকে আরো বলেন এসব জমি জামার বিরোধ নিয়ে এর পুর্বে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েকবার মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্র (রাম দা দামা) দিয়ে জাকের আমার ছেলেকে কুপিয়ে জখম করে। এসময় জাকের কে রাম দা সহকারে আটককে পুলিশে সোপার্দ করলেও শেষ পর্যন্ত জাকেরকে দামা সহকারে চেয়ে দেয় পুলিশ।

সিরাজ সাংবাদিকেদের জানান, জমি জামার বিরোধ মিটানোর লক্ষে আবুল কাশেম নিজে বাদী হয়ে ইউনিয়ন পরিষদে মামলা দায়ের করেন। গুলজার চেয়ারম্যান স্থানীয় গন্যমান্য লোকদের কে নিয়ে উক্ত বিষয়ে কয়েকদফা বৈঠক হয় আমাদের বাড়ীতে । সবার উপস্থিতিতে আমিন দিয়ে জমির পরিমাপ করে ৫ ভাইকে বন্টন করে দেয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। কিন্তু আবুল কাশেম গ্রাম্য শালিশ নামাকে না মেনে লক্ষ্মীপুর আদালতে মামলা করেই আমাদের বসতবাড়ী দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে। আমরা বাধা দিলে আমাদেরকে মারধর করে আবুল কাশেম ও তার ছেলেরা।

মৃত খোরশেদ এর ছেলে হৃদয় বলেন, আমার বাবা ২ বছর পুর্বে মারা যায় কিন্তু আমার বড় চাচা আবুল কাশেম আমাদের প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো আমাদের বসতবাড়ীর জমি দখল করার জন্য কয়েকবার আমাদের উপর হামলা করেছে।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করলে পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ উত্তপ্ত হইলে পুলিশ উভয়ের প্রতি চড়া হয়। উভয় পক্ষকে থানা আসার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন দাশের হাট পুলিশ পাড়ির ইনচার্জ মফিুজুর রহমান।
সিরাজ জানান, পুলিশ যাওয়ার পর আবারো জমিতে বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করে আবুল কাশেম। ¬¬
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কাশেম বলেন, আমি সর্বপ্রথমে ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেছি। কিন্তু গ্রাম্য আদালতের শালিশ মনোভূত হয়নি বিদায় লক্ষ্মীপুর আদালতে মামালা দায়ের করেছি। মামলা আদেশের পুর্বে জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সুু-দুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গুলাজার হোসেন বলেন, আবুল কাশেম জমি জামার বিষয়কে কেন্দ্র করে নিজেই বাদী হয়ে পরিষদে মামলা দায়ের করছেন সকল ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পরিমাপ করে বন্টন করে দেওয়া হয়। আবুল কাশেম স্থানীয় কোন কিছুই মানছেন না। শুনছি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তাহলে আদালতে সিদ্ধান্ত দিবে কিন্তু আদালতের আদেশের আগে জমি দখল এটি সম্পুর্ণ বে-আইনী ভাবে জবর দখল।