যার তার সঙ্গে ছবি তোলা উচিৎ নয় : শেখ হাসিনা

যার তার সঙ্গে ছবি তোলা উচিৎ নয় : শেখ হাসিন

সবুজ জমিন. পাপিয়া কেলেঙ্কারিতে এখন আওয়ামী লীগের মধ্যে নানা রকম আলোচনা চলছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের অনেক বড় বড় নেতার সঙ্গে পাপিয়ার সেলফি-ছবি দলটিকে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলছে। যদিও দলের অধিকাংশ সিনিয়র নেতারা, যাদের সঙ্গে পাপিয়ার ছবি উঠেছে। তাঁরা বলেছে যে, তাঁরা এই পাপিয়াকে চিনতোই না। কেউ যদি তাঁদের সাথে এসে ছবি তোলে তাহলে তাঁরা কি করবেন?

দেখা গেছে যে, রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের অনেক গুরুত্বপূর্ন নেতার সঙ্গে পাপিয়ার ছবি। প্রশ্ন উঠেছে যে পাপিয়া এতদূর গেল কিভাবে? কিভাবে তাঁদের কাছে পৌঁছাল? উত্তরে অবশ্য আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন যে, যেহেতু পাপিয়া নগর নরসিংদী বাংলাদেশ মহিলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিল, সেহেতু কোন নেতার কাছে যাওয়া তাঁর জন্য তেমন কোন বড় ব্যাপার ছিলনা। কিন্তু দেখা গেছে যে, নেতারা এখন যতই বলুক যে তাঁরা তাকে চেনেননা কিংবা জানতেন না, শুধুমাত্র পাপিয়ার পদবীর কারণেই তাঁরা ছবি তুলেছেন। কিন্তু সারা বাংলাদেশে ৬৪টি জেলা রয়েছে। কয়টি জেলার সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এরকম ছবি তুলতে পারে? এর উত্তরে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন যে, যেহেতু পাপিয়ার উদ্দেশ্য ছিল যে, রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা এবং রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করা। সে কারনেই তিনি উদ্দেশ্য প্রণেদিতভাবে ছবি তুলেছিল। আর এরকমভাবে যদি কেউ সুনির্দিষ্টভাবে স্বার্থ হাসিলের জন্য পরিকল্পনা করে ছবি তোলে তাহলে কার কি করার আছে?

কিন্তু আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক মহলে বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাই মেয়েদের সঙ্গে সখ্যতা করতে পছন্দ করে, ফেসবুকে তাঁদের একাধিক নারীবন্ধু রয়েছে এবং পুরুষ কর্মীরা আসলে যতটুকু ভাবগাম্ভীর্য রাখেন, নারী কর্মীরা আসলে ততটুকুই উদারতা এবং হাস্যরসে থাকেন। এটি দলের জন্য বিব্রতকর এবং সাম্প্রতিক সময়ে পাপিয়া কেলেঙ্কারির পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এই ব্যাপারে নড়েচড়ে বসেছে। একজন নারী কর্মী আসলে তাকে ঠিকভাবে না চিনেই তাঁর সঙ্গে ছবি তোলা উচিৎ কি উচিৎ না এই বিতর্কটি এখন আওয়ামী লীগে।