বালু উত্তোলণ করিতে সাংসদ কামালের কাছে আবেদন

জমিন প্রতিবেদক বাবুল : ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলণ করিতে লক্ষ্মীপুর ০৩ সদর আসনের এমপি সাবেক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী একে এম শাহাজান কামালের বরাবর আবেদন করেন শফিক পাটোয়ারী। এদিকে দেখা যায়, ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদের নাম দিয়ে আবেদন করলেও শফিক,বালু ব্যবসায়ী জুলাশ এলাকার বিভিন্ন মানুষের সাথে কন্টাকে চুক্তিবদ্ধ হয়ে মানুষের জমি বালু দিয়ে ভরাট করছে অহরহ।
সদর উপজেলা চররুহিতা গ্রামের বাসিন্দা শফিক পাটওয়ারী। পিতা মৃত হাজী আবুল বাশার পাটওয়ারী, সাং:চররুহিতা, থানা:সদর, জেলা:লক্ষ্মীপুর।
আবেদনটি পাঠকের জন্য হুবাহব তুরে ধরা হইলো।
তারিখ-১৬.১২.২০১৯
বরাবর
মাননীয় সংসদ সদস্য
লক্ষ্মীপুর-০৩।
মহাত্নন
যতাবিহিত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নিম্ম স্বাক্সরকারী মো: শফিক পাটওয়ারী, পিতা মৃত হাজী আবুল বাশার পাটওয়ারী, সাং-চররুহিতা, থানা: ও সদর: লক্ষ্মীপুর। আমি চররুহিতা ৪৫ নং মৌজার২৪,২৬ ও ৬৭৯ নং খতিয়ানে ৩৭৭১,৩৭৭২,৩৭৭৩ নং দাগে ১১৩ শতাংশ নাল ভূমি মালিক ও দখলকার হই। আমার নিজ প্রয়োজনে উক্ত জমির কেন্দ্র বিন্দু ৬০ শতাংশের জমি হইতে বালু উত্তোলণ করিয়া স্থানীয় নবি গঞ্জ দাখির মাদ্রাসা ও হাসিম বেপারী বাড়ীর ফোরকানিয়া মাদ্রাসার প্রস্তাবিত ভবনের জায়গা ভরাট করা সহ আমার নিজ বসত বাড়ীর কিছু অংশ ভরাট করা একান্ত প্রয়োজন।
অতএব মহোদয় আমাকে উক্ত জায়গাগুলো ভরাট করার জন্য অনুমতি প্রদান করতে আপনার একান্ত মর্জি হয়। বিনীত-সফিক পাটওয়ারী।
সংসদ সদস্য একে এম শাহাজান কামাল সফিক পাটওয়ারীর আবেদনটি গ্রহন করেন তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেদায়ান আহমেদ শাকিলকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
এর পরে শপিক পাটওয়ারীর পক্ষে স্থানীয় জুলহাস ও নুরুল ইসলাম, সংসদ সদস্যের ঐ আবেদনের একটি ফটোকপি নিয়ে চররুহিতা ইউনিয়নে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলণ শুরু করেন।
দীর্ঘদিন বালু উত্তোলনের কারণে পাশবর্তী জমির মালিকদের জমি ক্রমাগত তলিয়ে যাওয়ায় সম্ভবনা আছে বিধায়, স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন সাংবাদিক সরোজমিনে গেলে বালু ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম প্রতিবেদককে জানান, এমপি সাহেব, ইউনো সাহেব, চেয়ারম্যান সাহেব বালু উঠানোর অনুমতি দিয়েছে । অনুমতি পত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম একটি আবেদন দেখান সেই আবেদনটি তুলে ধরা হলো। বালু ব্যবসায়ী জুলহাস বলেন, এর পুর্বে চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী আমার মেশিন পরিষদে নিয়ে যায়। পরে বালু উত্তোলনের জন্য আমি এমপি সাহেব বরাবর আবেদন করি। ইউ এনও স্যারের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদনটি আসলে চেয়ারম্যান সাহেব আমার ড্রেজার মেশিন দিয়ে দেয় এবং আমাকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়।

সোমবার সকাল ১১টার দিকে সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ নির্দেশে ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মহি উদ্দিরে অভিযান চালিয়ে  ড্রেজার মেশিলে লবন দিয়ে মেশিনটি অকেজো করে দেয় এবং ৩শতাধিক পাইব পুড়িয়ে দেয়।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মহিন উদ্দিন প্রতিবেদককে জানান, উধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে আমি ঘটনাস্থলেন গিয়ে দেখি ফোরকানিয়া মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে জুলাশ নামে এক ব্যবসায়ী স্থানীয় মুন ও মোস্তাফার সাথে চুক্তবদ্ধ হয়ে তাদের জায়গা বালু বরাট করিতেছে। এসময় লবন দিয়ে মেশিনটি অকেজো করা হয়াছে। ৩ শতাধিক পাইব পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান কবির পাটওয়ারী বলেন, সল্প পরিমানের জায়গা বালু দিয়ে বরাট করার অনুমতি ইউপি পরিষদের বিধানে রয়েছে। সীমানা লঙ্গন করে যদি অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে আবেদনকারীর বাড়ীতে গিয়ে আবেদনকারী শফিক কে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে সদর উপজেলা নির্বাহি অফিসার রেদওয়ান আহম্মেদ শাকিল প্রতিবেদককে জানান, সফিক আহম্মেদ আবদেনটি না মঞ্জুর করা হয়াছে।
এবিষয়ে জানতে মুঠোফোনে ফোন করলে সংসদ সদস্য একে এম শাহাজান কামাল ফোন রিসিভ করেননি ।