লক্ষ্মীপুরে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে নির্যাতন, বসতঘর উচ্ছেদ

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে নির্যাতন করে ভায়াটিয়া সন্ত্রাসী কর্তৃক বসতঘর উচ্ছেদ করার অভিযোগ উঠেছে আব্দুর রব গংদের বিরুদ্ধে। ঘটানাটি ঘটেছে ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকাল ৩ ঘটিকায় সদর উপজেলা দালাল বাজার ইউনিয়নে মহাদেবপুর গ্রামে ৩ নং ওয়ার্ডে আলী রাজা পাটওয়ারী বাড়ীতে।
স্ত্রীকে নির্যাতন ও ভায়াটিয়া সন্ত্রাসী কর্তৃক বসতঘর উচ্ছেদ করার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে তারা হলেন আব্দুর রব, আহম্মেদ ফারুক, উভয় পিতা মৃত আজিজুর রহমান। রিয়াজ-পিতা মৃত শাহাবুদ্দিন , কামরুল-পিতা মৃত তোফায়েল আহম্মেদ, পলাশ , সোহাঘ উভয় পিতা: আব্দুল মতিন পাটোয়ারী।
অভিযোগ কারী মোস্তফা একই বাড়ীর বাসিন্দা।
জো
অভিযোগকারী মোস্তফার অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা সরোজমিনে গিয়ে বসত ঘর ভাংচুরের ছবি সংগ্রহ করেন পরবর্তীতে হাসপাতালে গেলে মোস্তাফার স্ত্রী নার্গিস আক্তার প্রতিবেদককে জানান, আনুমানিক বিকাল ৩ ঘটিকায় সময় আব্দুর রব, আহম্মেদ ফারুক, রিয়াজ, কামরুল, পলাশ, সোহাঘ সহ অজ্ঞাত আরো ১৫/২০ জন ভায়াটিয়া সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রসহ আমার বসত ঘরে প্রবেশ করে আমার স্বামী মোস্তাফাকে ঘরের বাহিরে নিয়ে বেঁেধ ফেলে। আমি বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা আমাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে মাটিতে পেলে এবং দেশীয় চোরা দিয়ে আমার সারা শরীরের হাত মুখ কপাল পিঠে বুকে স্তনের পাশে আঁকে দেয়। আমার বৃদ্ধ শশুর নুরুল ইসলামকে মারধর করে ।

এসময় সন্ত্রাসীরা আমার বসতঘর ভাংচুর করে পার্শবর্তী খালে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে আমার পিতা ইদ্রিস পাটোয়ারী ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে আমাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন । ভুক্তভোগি মোস্তফা প্রতিবেদক বলেন, ২০০৫ সালে দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী সহ স্থানীয় গন্যমানী ব্যাক্তিবর্গ আমার দালিলিক কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে আমিন মিয়ার অংশীদার হিসেবে ১১২ ডিং ভূমি মালিকানা হিসেবে আমার পক্ষে লিখিত রায় প্রদান করেন। উক্ত ভ’মিতে আমি বসবাস করিয়া আসিতেছি। গত ২৩ ডিসেম্বর সোমবার সকাল ৭ ঘটিকায় আশ্রাফুর রহমান (বাবুল),আব্দুর রব সহ ৭/৮ জন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আমার ঘরে ঢুকে আমার স্ত্রী এবং আমাকে মারধর করে বসত ঘর ভাংচুরের চেষ্টা করে।
পরবর্তীতে ঐ ঘটনা নিয়ে আমি লক্ষ্মীপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করিলে মহমান্য আমদালত আসামীদের বিরুদ্ধে সদর থানাকে ট্রিট পর এফআই আর করার নিদ্দেশ প্রদান করেন। সদর থানা এফ আই আর চলাকালীন সময়ে আজ ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকাল ৩ ঘটিকায়
আব্দুর রব গং সহ ভাংয়াটিয়া সন্ত্রাসীরা এসে প্রথমে আমার হাত পা বেঁধে পেলে আমার স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করে আমার বৃদ্ধ পিতাকে মারধর করে আমার বসত ঘর কুপিয়ে পুরোপরি উচ্ছেদ করে পাশবর্তী খালে ফেলে দেয়। বর্তমানে আমার স্ত্রী ও বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে আব্দুর রব গংদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করে তাদেরকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর থানার এস আই ফুলেন ভুড়ুয়া জানান, দীঘদিন থেকে তাদের উভয়ের মধ্যে জমি জামার বিরোধ চলছে এই নিয়ে উভয়ের মধ্যে মামলাও রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে পরিদর্শন করা হয়েছে। মোস্তফার ঘর উপিড়ে ফেলার প্রমাণ পেয়েছি এবং মোস্তফার স্ত্রীর শরীরে কাটা দাগ রয়েছে। বিষয়টি সদর থানা ওসি স্যারকে অবগত করেছি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।