ফুলেল শুভেচ্ছায় শিক্ত প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী পিংকু

ফুলেল শুভেচ্ছায় শিক্ত হন প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিয়া গোলাম ফারুক পিংকু

সবুজ জমিন ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ পরিষদের যোগ দেন এসময় প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিয়া গোলাম ফারুক পিংকু।

প্রধাীনমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হওয়ায় আনন্দে মেতে উঠে লক্ষ্মীপুরের সর্বস্তরের মানুষ। তারই আলোকে অধীর অপেক্ষা ছিল আওায়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্চা সেবকলীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী। কখন প্রাণপ্রিয় নেতাকে এক নজর দেখবে, ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে গ্রহন করবে। ফুলের মালা হাতে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকে কর্মীরা। কখর আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ তাদের প্রিয় নেতা মিয়া গোলাম ফারুক পিংকু।
আজ রবিবার দুপুর দু’টায় জেলার রায়পুর শহরের শেষ প্রান্ত্রে মাহেন্দ্রক্ষণ মিয়া গোলাম ফারুক পিংকু পৌঁছলেই এসময় শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে নেতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা । এর পর রায়পুর পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নিজস্ব কায্যালয়ে পৌঁছলে পিংকুকে ফুলের শুভেচ্ছা জানায় রায়পুর আওয়ামী লীগ। এসময় রায়পুর ০২ আসনের সাংসদ কাজী পাপুলের সহধর্মানী কাজী সেলিনা ইসলাম এমপি ফুলের শুভেচ্ছা জানান পিংকুকে। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ, সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান, পৌর আওয়ামী আহ্বায়ক কাজী জামসেদ কবির বাকি বিল্লাহ প্রমুখ। পরে মোটরশোভা যাত্রা করে মিয়া গোলাম ফারুক পিংকুকে লক্ষ্মীপুরে নিয়ে যান নেতাকর্মীরা। এ সময় নেতাকর্মীদের শোভাযাত্রা ছিল চোখে পড়ার মতো
এর পর বিকাল ৩টায় লক্ষ্মীপুর লক্ষ্মীপুর সদরের মান্দারী রহিম উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ প্রাঙ্গনে সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিয়া গোলাম ফারুক পিংকুকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগ ছাত্র লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্চাসেবক লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় শিক্ত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। এসময় পিংকু কান্নাজড়িত কন্ঠে উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, তোমরা নেত্রী এবং আমাকে যে এত ভিশন ভালোবাসো তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে তাঁর সফর সঙ্গী করে কিছুটা হলেও ঋন পরিশোধ করেছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক একে এম মিজানুর রহিম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শামীম আহম্মদ, জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতলব, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নুরুল ্সলাম বাবুল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বিজন বিহারি, সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম চৌধুরী,  লক্ষ্মীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসমাঈল হোসেন চৌধুরী

, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট জহির উদ্দিন বাবু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহ্বায়ক একে এম শাহাজান কামাল, চন্দ্রগঞ্জ থানা ১৪ দলের আহ্বায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাবের আহম্মদ, জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ আহম্মদ পাটোয়ারী, জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল হাসান পলাশ, জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক শেখ জামাল রিপন। সংবর্ধনা সভায় কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।জেলা কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক হিজবুল বাহার রানা, জেলা স্বেচ্চাসেবক লীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনিরুজ্জামান পাটওয়ারী জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ, যুগ্ন আহ্বায়ক ইউচুফ পাটওয়ারী,

এসময় সংবর্ধনা সভার প্রধান অতিথি মিয়া গোলাম ফারুক পিংকু তার বক্তব্যে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতি রোহিঙ্গা সংকটকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি উল্লেখ করে এর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৪তম অধিবেশনে এই ইস্যুতে চার দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন।

বিষয়বস্তু হলো ‘দারিদ্র্য বিমোচন, মানসম্মত শিক্ষা, জলবায়ু কর্মসূচি এবং অন্তর্ভুক্তিকরণ বহুপক্ষীয় প্রচেষ্টার উজ্জীবন।
প্রধানমন্ত্রী প্রথম প্রস্তাবে বলেন, “রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আত্মীকরণে মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন দেখাতে হবে।”

দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বৈষম্যমূলক আইন ও রীতি বিলোপ করে মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি করতে হবে এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উত্তর রাখাইন সফরের আয়োজন করতে হবে।”

তৃতীয় প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বেসামরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের মাধ্যমে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী তার শেষ প্রস্তাবে বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণসমূহ বিবেচনায় আনতে হবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যান্য নৃশংসতার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।”

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তার অসন্তুষ্টি ব্যক্ত করে বলেন, “এটি বাস্তবিকপক্ষেই দুঃখজনক যে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়ায় আজ এই মহান সভায় এ বিষয়টি আমাকে পুনরায় উত্থাপন করতে হচ্ছে। ১১ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের আশ্রয়ে রয়েছে। যারা হত্যা ও নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।”

শেখ হাসিনা আরও বলেন, “রোহিঙ্গা সমস্যা প্রলম্বিত হয়ে তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছে, কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও চলাফেরার স্বাধীনতা এবং সামগ্রিকভাবে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফিরে যায়নি।”