লক্ষ্মীপুরে ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা বন্ধ

 

লক্ষ্মীপুরে ৯ অক্টোবর থেকে- ৩০ অক্টোবর ইলিশ ধরা বন্ধ

সবুজ জমিন: ‘মা ইলিশ বাঁচলে পরে, ইলিশ আসবে জাল ভরে’ এ স্লোগান নিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর ডিমওয়ালা ইলিশ শিকার বন্ধে প্রচারণা শুরু করেছে। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে সভা।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদী অববাহিকায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় পর্যন্ত ২২দিন নদীতে মাছ ধরা, আহোরণ, বাজারজাতকরণ, বিক্রি ও পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আশ্বিনের পূর্ণিমার জোয়ার ইলিশের ভরা প্রজনন মৌসুম। ইলিশ ডিম ছাড়ার সময় হলে সাগরের লোনা পানি থেকে ভোলা, বরিশাল, বরগুনা, লক্ষ্মীপুর, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকার মিঠা পানিতে প্রবেশ করে। প্রজননের পর ডিম থেকে উৎপাদিত লাখ লাখ পোনা প্রথমে জাটকা এবং পরে বড় ইলিশে পরিণত হয়।

তাই ইলিশ মাছের অবাধ প্রজনন ও ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে এ বছর বছর (৯ অক্টোবর ২৪ আশ্বিন থেকে- ৩০ অক্টোবর ১৪ কার্তিক) সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা থেকে বিরত থেকে জাতীয় সম্পদ ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।

ইকোফিশ প্রকল্পের গবেষণা সহযোগী শেখ মো. সাঈফ ঊল হক চিশতী জানান, মেঘনায় ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় প্রচারণার পাশাপাশি কমলনগর ও রামগতিতে ইকোফিশ প্রকল্পের ৪০ জন কমিউনিটি ফিশ গার্ড হিসেবে মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রশাসন কে সহায়তা প্রদান করবে। ইতোমধ্যে কমিউনিটি ফিশ গার্ডদের টহল পরিকল্পনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ফিশ গার্ডরা মূলত কমলনগর ও রামগতির ১০টি ইলিশঘাট ও ঘাটসংলগ্ন এলাকায় পাহারা দিবে কেউ নদীতে মাছ ধরার চেষ্টা করলে তা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে অবহিত করবে।

তিনি আরো বলেন ইউএসএইড’র আর্থিক সহযোগিতায় এবং ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের এই প্রকল্পটি ২০১৫ সাল থেকে লক্ষ্মীপুরসহ বাংলাদেশের ৯টি উপকূলীয় এলাকায় ইলিশ মাছের গবেষণা কার্যক্রমের পাশাপাশি সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রবর্তন ও চর্চার মাধ্যমে ইলিশ নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সচেতনতা, বিকল্প জীবিকায়ন তথা দরিদ্র মৎস্যজীবিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষতা বৃদ্ধিতে নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মহিব উল্যা জানান, নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে ইলিশ মাছ ধরা নিষেধ। এ সময় কেউ আইন ভঙ্গ করে নদীতে নামলে তাকে ১ম মাস হতে ৬ মাসের জেল এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা জরিমানার করার বিধান রয়েছে। এ ব্যাপারে সকলের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল বলেন, ২২দিন যাতে কোন জেলে মেঘনা নদীতে মাছ না ধরতে পারে সেই জন্য উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড, পুলিশ, মৎস্য বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আইন অমান্যকারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারের করা হবে।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল জানান, ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানের নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে ইলিশ না ধরতে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে আইন ভঙ্গ করার চেষ্টা করলে তা কঠোর ভাবে মোকাবেলা করা হবে।

আমরা জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় সকলকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আশা করি জেলেরা নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে মাছ ধরবে না। যদি ধরার চেষ্টা করে তা হলে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।