লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগ নেতার চুরিঘাতে কর্মী হাসপাতালে

 

সবুজ জমিন: লক্ষ্মীপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা রাফির ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন আলমগীাসেন নামে এক কর্মী।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা শহরের সিটি হসপিটালের সামনে।

আহত আলমগীর হোসেন লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী। অভিযুক্ত রাফি পৌরসভা ১০নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ন-আহ্বায়ক। তারা উভয়ই পৌরসভা ১০নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা আরিয়ান রাফির সামনে ধূমপান করেছেন দলীয় কর্মী আলমগীর হোসেনসহ তাঁর কয়েকজন বন্ধু। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যায় ওই নেতা। জড়িয়ে পড়েন কথাকাটাকাটিতে। একপর্যায়ে রাফিকে মারধর করেন আলমগীরসহ অন্যরা। পরে রাফি দৌড়ে গিয়ে পাশের একটি হোটেল থেকে ছুরি এনে আলমগীরের গলায় ছুরিকাঘাত করে।এতে তার গলা কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আলমগীরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

একাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে প্রায় এমন ঘটনা ঘটে।এসব বন্ধের বিষয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় এমটি হচ্ছে বলে দাবি করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, রাফি পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ন-আহ্বায়ক মিনহাজ আলম সাকিবের অনুসারি হিসাবে পরিচিত। আর আলমগীর হোসেন ছাত্রলীগ নেতা নাসিম দিপ্তর অনুসারি। রাফি ও আলমগীরের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্ধ রয়েছে। এসব দ্বন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে পূর্বে সংঘঠিত ঘটনাগুলোর সঠিক বিচার না হওয়ায়। পূর্বের ঘটনায় যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করলে তৃনমূলের কর্মীরা গ্রুপিং আর সংঘর্ষ করার সাহস পেতো না। তাই এসবের জন্য জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্বকে দূষলেন সাবেক এই নেতা।

ছাত্রলীগ নেতা মিনহাজ আলম সাকিব বলেন, আমি ঘটনাটি কিছুই জানতাম না। সন্ধ্যায় ফেসবুকে প্রথম দেখতে পাই।

তবে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল করিম নিশান বলেন, এটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, প্রেম নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্ধ ছিল। সেখান থেকেই ঘটনাটি ঘটেছে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলেও জানান। তিনি আরো বলেন, বর্তমান ছাত্রলীগ পূর্বের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। কারন কোন কর্মী দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলেই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।