লক্ষ্মীপুরে পাওয়না টাকা ফেরৎ চাওয়ায় বন্ধুকে হত্যা

সবুজ জমিন: একসঙ্গে মুদি দোকানে চাকরি করার সুবাদে মো. সুমন ও সোহেল হোসেনের পরিচয়। সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠে টগবগে এ দুই যুবকের পরম বন্ধুত্ব। রাত-দিন গল্প-আড্ডায় তাদের একসঙ্গে কেটেছে। পরিবারের সুখ-দুঃখও একে অন্যকে জানিয়েছে। পরিবারের কথা বলে সুমনের কাছ থেকে সোহেল টাকা ধার নেয়। এর মধ্যে অনিয়মের কারণে দোকান থেকে সোহেল এক মাস আগে চাকরিচ্যুত হয়। অভাব-অনটনে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে সে (সোহেল) দিনমজুরের কাজ ধরে। এদিকে ধার নেওয়া টাকা ফেরত চাওয়ায় বিপদ ডেকে আনে সুমনের জীবনে। কে জানত, টাকা চাইলেই কৌশলে ডাব খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে সুমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হবে? আবার বস্তাবন্দি করে নির্জন বাগানে মাটিচাপা দেওয়া হবে! বন্ধু এত ভয়ংকর হতে পারে?

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আলোচিত মুদি দোকানের কর্মচারী সুমন হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আসামি বন্ধু সোহেল। গতকাল সোমবার বিকেলে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রামগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক রায়হান চৌধুরী এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর আগে পুলিশের কাছে একই জবানবন্দি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাওসারুজ্জামান।

এদিকে সুমন হত্যার প্রতিবাদে রামগঞ্জের প্রধান সড়কে সকাল ১১টার দিকে মানববন্ধন করেছে সোনাপুর বাজারের ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ। এ সময় বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম, নিহতের বাবা ইউনুছ আলী, মিলন আঠিয়া প্রমুখ। তাঁরা সোহেলের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

রামগঞ্জ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক কাওসারুজ্জামান জানান, আসামি সোহেল একাই বন্ধু সুমনকে হত্যা করেছে। সোনাপুর থেকে ২১ জুলাই বাড়ির পথে এগিয়ে দেওয়ার জন্য সুমনকে ডেকে নেয় সোহেল। পরে সোহেল ডাব খাওয়ানোর কথা বলে সুমনকে রাত ১১টার দিকে বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে ধার নেওয়া টাকার প্রসঙ্গে দুজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দা দিয়ে কুপিয়ে সুমনকে হত্যা করা হয়। পরে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি করে তার মরদেহ বাগানে মাটিচাপা দেওয়া হয়।