অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে: নবাগত পুলিশ সুপার

সবুজ জমিন: লক্ষ্মীপুর জেলার নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান বলেছেন, ‘থানাকে জনগণের সেবা কেন্দ্র হিসেবে পরিণত করা হবে। এর ব্যত্যয় হলে এর দায়-দায়িত্ব আমি নেব। সাধারণ জনগণ যেন হয়রানি বিহীনভাবে মামলা, জিডি বা পুলিশি সেবা পেতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করা হবে। থানা হবে জনগণের আস্থা ও সেবার কেন্দ্রবিন্দু।’ মঙ্গলবার সকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন ও ইভটিজিং বিষয়ে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করে সকলের সহযোগিতা ছেয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘যারা মাদক বিক্রি ও সেবনের সাথে জড়িত তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। পুলিশের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, বিক্রি বা বিক্রেতাদের সহায়তার প্রমান পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট কাউকেই কোনভাবে ছাড় দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ নির্মূলে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। কারো গতিবিধি সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দিন। অপরিচিত কারো কাছে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার আগে খোঁজ-খবর নিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে- তারা যতো প্রভাবশালীই হোক না কেন। যেই অপরাধী হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার চলমান রয়েছে। আসছে ঈদুল আযহার জন্য কোরবানির পশু হাটে বা পথে পথে যেন চাঁদাবাজি না যে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। হাটকে ঘিরে নিরাপত্তা ববস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ। শিশু ও নারী নির্যাতিতদের পুলিশ আইনী সহায়তা দেবে।’

বর্তমানে ‘‘ছেলেধরা গুজব’’ প্রসঙ্গে এসপি কামরুজ্জামান বলেন, ‘ছেলেধরা গুজবে কান দেবেন না। কারো প্রতি সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দিন। আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।’ তিনি বলেন, ‘দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করার জন্য একটি মহল অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে। তাই ফেসবুকে নজরদারি করা হচ্ছে।’

ডেঙ্গু বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। সচেতন হলে ডেঙ্গু ভাইরাস কিছুটা এড়ানো যাবে। পৌর মেয়র এবং বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি যেন এ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করে।’

সাংবাদিকদের উদ্যেশ্য তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্র সমাজের দর্পন। বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করে পুলিশকে সহায়তা করুন।’ সংবাদপত্রে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে কোন প্রতিবেদন আসলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আলোচনা সভায় আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের তাৎক্ষণিক তথ্যদিয়ে সহযোগিতা করা জন্য পুলিশ সুপারের কাছে দাবি জানান সাংবাদিক নেতরা।

অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (সদর-সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাব সভাপতি কামাল উদ্দিন হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম পাবেল, দেশ টিভির জেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেন, সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি মাবুবুলল ইসলাম ভুঁইয়া, একুশ টিভির জেলা প্রতিনিধি ফেরদৌস আক্তার নয়ন, এস এ টিভির জেলা প্রতিনিধি শহিদ ইসলাম, চ্যানেল ২৪ জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম স্বপন, আমার সংবাদ জেলা প্রতিনিধি আলী হোসেন, দৈনিক সবুজ জমিন সম্পাদক ও প্রকাশক আফজাল হোসেন সহ জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা।

এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারি পুলিশ সুপার (রামগতি-সার্কেল) মারুপা নাজনীন, ডি আই ওয়ান ইকবাল হোসেন, গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মোক্তার হোসেন, সদর থানার ওসি আজিজুর রহমান মিয়াসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী।