লক্ষ্মীপুরে ছেলে ধরা আতঙ্কে অভিবাবকগণ

 

সবুজ জমিন: লক্ষ্মীপুরে চলছে ছেলে-মেয়ে ধরা আতঙ্ক। গত এক সপ্তাহ যাবত পাড়া-মহল্লাহ ও বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে এই আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। (আঞ্চলিক ভাষায় পোলা চোর)

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে ছেলে ধরা চোরেরা ধরা পড়লে এমন ভাব দেখায় যে, এরা পাগল কিংবা বোবা, আসলে এরাই প্রকৃত ছেলে ধরা চোর। অন্যদিকে পুলিশ বলছে ছেলে ধরা মানুষ অধিকাংশই মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুর। ৬ জুলাই লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ২ নং দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়ন এর পশ্চিম গোপিনাথ পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে অধ্যয়ন রত শিক্ষার্থী মিথিলা(৬) কে অজ্ঞাত পরিচয় হীন আনুমানিক পঁচিশ বছরের একটি ছেলে স্কুল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ে জনতার হাতে ধরা পড়ার খবর পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে জনতা ও স্কুল ছাত্রীর বাবা মাসুদ আলম মিলে উক্ত মেয়ে ধরাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
এই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজমান। ঐ দিকে সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নে ২নং ওয়ার্ডে ৫ জুলাই শুক্রবার ছেলে ধরা চোরকে হাতেনাতে ধরে স্থানীয়রা। পরে তাকে ছেয়ে দেয় তারা। তবে স্থানীয়দের ধারনা এসব ছেলে ধরা চোর গুলো মায়েনমারের রহিঙ্গা।

উপরোক্ত বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মহাদেব পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফ হোসেন বাচ্চু বলেন, ইদানিং কালে ছেলে ধরার হিড়িক লক্ষ্মীপুর জেলায় শুনা যায়,যার কারনে অভিভাবকরা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজকর্ম ফেলেও বাচ্চাদের সাথে স্কুলে এসে বসে থাকেন। তদুপরি আজ শুনলাম ২নং দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়ন এর অন্তর্গত পশ্চিম গোপিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী কে এক অজ্ঞাত পরিচয় হীন প্রায় ২৫ বছর বয়সী যুবক তুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ে জনতার হাতে আটক হয়, পরবর্তীতে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এতে করে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান তিনি।
এই ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৩নং দালাল বাজার ইউনিয়নের সাবেক ছাত্র নেতা রুবেল হাসনাত বলেন, এরা যখন ধরা পড়ে তখন তারা পাগল, উন্মাদের অভিনয় করে, এর বিষয়ে অনুসন্ধান করে সে যদি দোষি সাবস্থ হয়, তাহলে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করছেন।
২নং দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়ন এর যুবলীগের আহবায়ক নাজমুল আলম রনী বলেন তদন্ত করে সে যদি দোষী সাবস্থ হয় তাহলে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির বিধান করিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজিজুর রহমান এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যতটুকু বুঝেছি এই ছেলেটি বিকৃত-মস্তিক সম্পন্ন ব্যক্তি, সে নিজের নামও বলতে পারে না।