লক্ষ্মীপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার  যোগসাজশে ১২ কোটি টাকার কাজ লোপাট

সবুজ জমিন রিপোর্টারঃ লক্ষ্মীপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রায় ১২ কোটি টাকার টেন্ডারের কাজ গোপনে ভাগভাটোয়ারা করার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে জেলা সদরে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার টেন্ডার ছাড়াও রায়পুর, রামগঞ্জ সহ এ তিন উপজেলার টেন্ডার সিডিউল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টা পর্যন্ত বিক্রয় বন্ধ রাখতে দেখা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দলীয় কয়েকজন প্রভাবশালীয় নেতা ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কর্মকর্তা মো: মাহফুজুর রহমানের গোপন যোগসাজশেই সিডিউল বিক্রী বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিকালে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে নিয়মানুযায়ী সিডিউল বিক্রী না করা কোন সুযোগ নেই। প্রয়োজনে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিডিউল বিক্রী করা হবে। অথচ জেলা প্রশাসকের এই বক্তব্যে সাথে ঠিকাদাররা সিডিউল ক্রয়ের জন্য বিকেল পৌনে ৫ টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ত্রান ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা দফতরে গিয়ে কোন মিল খোঁজে পায়নি।

যারাই সিডিউল ক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছে তাদের বের করে দিয়েছেন সরকার দলীয় নেতারা। আর বরাবরের মতোই জেলার রামগঞ্জ, রায়পুরের সিডিউল ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ সহ জেলা ত্রান ও পুর্নবাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সিডিউল পৌঁছানো হয়নি বলে ঠিকাদার সহ সংশ্লিষ্টদের দাবী করেন। ফলে এ ঘটনায় ঠিকাদাররা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং ঠিকাদারের তোপের মুখে পড়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কর্মকর্তা মো: মাহফুজুর রহমান নাজেহাল হয়ে পড়েন। এসময়  সাংবাদিকরা ক্যামরা দিয়ে ভিডিও ধারন করতে গেলে সাংবাদিকদের উপর চড়া হন এই কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের সারা দেশের মতো লক্ষ্মীপুরের ৫ উপজেলা ব্রীজ কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র আহব্বান করেন। গত ১৬ জুন দরপত্র বিক্রীর তারিখ নির্ধারন থাকলেও সময় মতো প্রস্তুতি না থাকায় সর্বশেষ সময় বাড়িয়ে সিডিউল বিক্রির শেষ তারিখ নির্ধারন করেন ২০ জুন । সে অনুযায়ী ঠিকাদাররা গত ক’দিন থেকে বারবার চেষ্টা করে ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মানের সর্বশেষ সময়েও জেলার রামগতি ও কমলনগর ছাড়া লক্ষ্মীপুর সদর সহ রায়পুর, রামগঞ্জ উপজেলার সিডিউল ক্রয়ে ব্যার্থ হয়। এক পর্যায়ে ঠিকাদারদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা দ্রুত ছুটে আসেন। কেন সিডিউল বিক্রী করা হচ্ছেনা এ বিষয়ে জানতেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: মাহফুজুর রহমান। শেষ মেশ তেমন কোন সদুত্তর দিতে না পারায় ঠিকাদার ও সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়ে নাজেহাল হন ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: মাহফুজুর রহমান।
এরপর কেন জেলা কার্যালয়ে সিডিউল পৌঁছানো হয়নি এ বিষয়ে জানতে চেয়ে পরে নিজেকে রক্ষায় মাহফুজুর রহমান লক্ষ্মীপুর সদর সহ রায়পুর ও রামগঞ্জ সহ তিন উপজেলা কর্মকর্তাকে সতর্ক করে জরুরী তাগিদপত্র পৌছিয়ে কোন কাজ হয়নি বলে জানা যায়। ফলে এ নিয়ে সরকারের ভাবমুর্তিতে চরম আঘাত সহ সবত্রই ক্ষোভ অসন্তোষ বিরাজ সহ সংশ্লিষ্টরা ভাগভাটোয়ারাকৃত দরপত্র বাতিলের দাবী জানিয়েছেন।

চোখ রাখুন দৈনিক সবুজ জমিন প্রিন্ট বার্সনে—-।