লক্ষ্মীপুরে কৃষকের ফসলি জমির মাটি জোর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায়

 

 

সবুজ জমিন: লক্ষ্মীপুরের তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের কৃষকের ফসলি জমির মাটি জোর করে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে ওই গ্রামের মেসার্স হাজী ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারার (অনুমোদনহীন) বাংলা ইটভাটার মালিক জাহাঙ্গীর স্থানীয় কিছু দালালের ছত্রছায়ায় অন্যের জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে জমির উর্বতা শক্তি নষ্ট হয়ে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

২০ মে সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দুই জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী পৌর শহরের সমসেরাবাদ গ্রামের হাজি তোফায়েল মিয়া।

অভিযোগে মেসার্স হাজী ব্রিকস এর মালিক জাহাঙ্গীর ও সমসেরবাদ গ্রামের আব্দুল গোফরানের ছেলে ভুট্রকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় একটি সিন্ডিকেট কিছু কৃষিজমির মাটি ক্রয় করে অন্য কৃষিজমির মাটি জোর করে কেটে নিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছে। এরই ধারাবাহিকতায় চরমনসা গ্রামের পূর্ব চরমনসা মৌজার ১৪৩ ও ১৪৪ দাগ থেকে মেসার্স হাজী ব্রিকস জোর পূর্বক সমসেরাবাদ গ্রামের তোফায়েল আহম্মদ এর বিজ বিপণন কৃষি জমি থেকে ৩/৪ফুট গভীর গর্ত করে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যায়। এতে তার ফসল ক্ষতি সহ প্রায় ২লক্ষ টাকা ক্ষতিসাধন হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।

ইট ভাটার জন্য ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ছবি সংগৃহীত

সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনই চরমনসা এলাকার ফসলি জমির মাটি ভেকু দিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ ফুট গর্ত করে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে পাশের জমির মাটি এমনিতেই ভেঙে গর্তে পড়ে যাচ্ছে। তাই পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদের বাধ্য হয়ে জমির মাটি বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে করে ধীরে ধীরে পার্শ্ববর্তী জমিও অনাবাদী হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে অবৈধ ট্রাক্টর দিয়ে মাটি আনা নেওয়ার ফলে সড়কের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে।

অভিযুক্ত মেসার্স হাজী ব্রিকস এর মালিক জাহাঙ্গীর জানান, সমসেরাবাদ গ্রামের ভুট্রু থেকে ওই জমির মাটি ক্রয় করেছি। তারা আমাদের থেকে ১১ হাজার টাকা মাটি বাবত নিয়ে গেছে। বাকী টাকা পরে নিবে বলে জানান তিনি।

আরেক অভিযুক্ত ভুট্রু জানান, তোয়ায়েল আহম্মদ মাটি আগেই বাদল থেকে বিক্রি করে দিয়েছে। সবগুলো মাটি বাদল নিয়ে গেছে। বাকী মাটিগুলো আমি ব্রিকস ফিল্ডে বিক্রি করে দিয়েছি। তাছাড়া ব্রিকস ফিল্ড মালিক জ্জ ফুট গর্ত করে মাটি কেটে নিবে তা আমাকে জানায়নি।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল বলেন, ফসলি জমি থেকে জোর পূর্বক মাটি কেটে নেওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।