চলন্ত বাসে নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যার

সবুজ জমিন: শোরগঞ্জে কটিয়াদীতে চলন্ত বাসে শাহিনুর আক্তার তানিয়া (২৪) নামে এক নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গজারিয়া জামতলী নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। পরে ধর্ষণকারীরা তানিয়ার লাশ কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় স্বর্ণলতা পরিবহনে বাস ড্রাইভার নূরুজ্জামান (৩৯), হেলপার লালন মিয়াকে (৩৩) সহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত তানিয়া কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। তিনি রাজধানী ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জানা যায়, বাড়ির উদ্দেশ্যে তানিয়া সোমবার বিকালে এয়ারপোর্ট কাউন্টার থেকে টিকিট নিয়ে মহাখালী টু পিরিজপুর রুটে চলাচলকারী স্বর্ণলতা পরিবহনে উঠেন। পিরিজপুর থেকে তার বাড়ির দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিটের রাস্তা।

রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসটি কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে পৌছলে তখন তার ভাইয়ের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়; তখন বলেন আর মাত্র পাঁচ সাত মিনিট লাগবে পিরিজপুর পৌছতে। কিন্তু কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে বাসের সমস্ত যাত্রী নেমে যায়।

এসময় গাড়ির ড্রাইভার এবং হেলপার কৌশলে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড থেকে তার সাথের চার-পাঁচজনকে যাত্রীবেশে গাড়িতে তোলেন। কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে দুই কিলোমিটার দূরবর্তী ভৈবর-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গজারিয়া জামতলী নামক নিরব জায়গায় শাহিনুরকে জোরপূর্বক চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ করে এবং গলায় ওড়না প্যাচিয়ে তাকে হত্যা করে বলে স্বজনরা ধারণা করছেন।

তার মৃত্যুর পর ধর্ষণকারীরা রাত পৌনে এগারটার দিকে কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে দুর্ঘটনা কথা বলে লাশ ফেলে রেখে যায়। হাসপাতাল রেজিস্ট্রার সূত্রে লাশ আনয়নকারীর নাম পাওয়া যায়, আল আমিন, পিতা ওয়াহিদুজ্জামান, গ্রাম ভেঙ্গারদি, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

এদিকে পাঁচ মিনিটের কথা বলে দীর্ঘ সময় সে পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ডে স্বর্ণলতা বাস না পৌছায় তার ভাই মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। গভীর রাতে সংবাদ পায় শাহিনুরের লাশ কটিয়াদী হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে রাখা হয়েছে।

তার ভাই কফিল উদ্দিন সুমন জানায়, শাহিনুরের সাথে একটি এলইডি ১৯ ইঞ্চি টেলিভিশন, একটি স্যামসং অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন ও বেতনের ১৫-১৬ হাজার টাকা ছিল।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, পুলিশ রাতেই বাসটির স্থানীয় দুই কর্মীসহ তিনজনকে আটক করে। পরে তাদের সহায়তায় বাসের চালক ও হেলপারকে গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেনি।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কটিয়াদীতে থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, শাহিনুরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ব্যাগ, কাপড় চোপড় পাওয়া গেছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে আসল ঘটনা জানা যাবে।