লক্ষ্মীপুরে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অফিস ফাঁকি ॥ সহকারী ঘুমে বিভোর

সবুজ জমিন: একদিন নিজে অসুস্থ অন্যদিন পরিবারের সদস্য অসুস্থ বিভিন্ন সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে অফিস ফাঁকি দেওয়ার তাঁর প্রধান কাজ। দায়িত্ব পালন না করেই মাস শেষে সরকারের হাজার হাজার টাকা বেতন উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছেন, এমনি অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিছুজ্জামানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার দুপুর ১২টায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিছুজ্জামান অফিসে নেই । এই কর্মকর্তার দায়িত্ব অবহেলায় পুরো অফিসেই অনিয়ম যেন মাকড়শার জালের মত বাসা বেঁধেছে। দেখা যায় এক সহকারী কর্মকর্তা চেয়ারে বসেই নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন। অন্যেরা এদিক ঐদিক হাটতেছেন, ঘুরতেছেন। তাদেরকে দেখে মনে হয় এটা তাদের শশুর বাড়ী। আবার দেখা যাচ্ছে পুরো অফিস জুড়ে অ-পরিস্কার অ-পরিচ্ছন্ন ময়লা আবর্জনা ভরপুর । ছবি তুলতে গেলে কিছু অফিস সহায়ক এসে বাধা দিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চড়া হয় সাংবাদিকদের উপর।

এবার প্রশ্ন করা হয়, আপনাদের বস্ কোথায়, কেউ উত্তর দেয় না। পরবর্তীতে অভিযোগকারী থেকে জানা যায়, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিছুজ্জামান অফিস ফাঁকি দিয়ে রোজগার্ডেন একটি (টিএনসি) কোম্পানীর অনুষ্ঠানে। সেখানে গিয়ে জানাযায়, সকাল ১১টা থেকে তিনি টিএনসি অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন। এখানে এই কর্মকর্তার কাজ কি? কিংবা লাভই কি? হ্যাঁ এখানে হচ্ছে বড় ধরনের ব্যবসা। নগদে রাতারাতি ধনী হওয়া সম্ভব। তিনি নাকি টিএনসির বড় পদটি কিনে নিয়েছেন। অবশেষে তিনি সাংবাদিকদের দেখে দ্রুতগ্রুতিতে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে আসেন। একপর্যায়ে রোজ গার্ডেন নিছে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিছুজ্জামান বলেন, অফিস ফাঁকি দিয়ে এখানে আসা আমার ঠিক হয়নি এ কথা বলে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু জাপর মুঠোফোনে সবুজ জমিনকে বলেন, অফিস চলাকালীন সময়ে সরকারী কাজ ছাড়া ব্যাক্তিগত কোন কাজে কোথায়ও যোগদান করা সম্পুন্ন ঠিকনা। কেউ অনিয়ম করার সুযোগ নেই, অনিয়ম করে পার পাবে না, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।