সংসদ নির্বাচন: গুজব ঠেকাতে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে পারে

গুজব ঠেকাতে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে পারে নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশে নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর উপরে সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে নির্বাচন কমিশন। তারা বলছেন, দরকার হলে মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেয়া হবে।

বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন বলছে, গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে কেউ যদি কোথাও নির্বাচন বানচালের উস্কানি দেয় – তবে তা ঠেকাতে দরকারে এমনকি সেই এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেয়া হবে।

কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বলছেন, “সোশাল মিডিয়াতে কিন্তু অসংখ্য আছে ফেক আইডি। যাদেরকে আমরা চিনতে পারছি না। তারা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা ঐসব পোষ্ট বন্ধ করে দিতে পারি।”

“অথবা, যদি এমন হয় যে ঐ সোশাল মিডিয়ার কারণে এলাকার আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি হতে পারে সেক্ষেত্রে আমরা নেটওয়ার্ক শাটডাউনও করতে পারি” – বলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর উপরে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে।

এজন্যে টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে শুরু করে ইন্টারনেট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন কোম্পানি ও পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

কিন্তু কোন ধরনের মন্তব্য, ছবি, পোষ্ট, গুজব বা অপপ্রচারের আওতায় পড়বে কিনা এ প্রশ্নে জবাবে হেলালুদ্দিন আহমদ বলছেন, “যেমন দেলোয়ার হোসেইন সাইদীকে চাঁদে দেখা গেছে সেই গুজবকে ভিত্তি করে হাজার হাজার লোক রাস্তায় নেমে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনত করেছে। অথবা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় একটা প্রোপাগান্ডা হয়েছে। সেটাই আমরা মাথায় রেখে নির্বাচনকে ঘিরে যাতে প্রচার করে মানুষকে উস্কানি দিতে না পারে – তা আমরা মনিটরিং করবো।”

বাংলাদেশে এবারের নির্বাচন এমন একটা সময়ে হচ্ছে যখন এর আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার হচ্ছে অনেক বেশি।

এর আগের কোন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি নিয়ে এতটা ভাবতে হয়নি।

বিষয়টি এক ধরনের উদ্বেগ যে তৈরি করছে সেটি বোঝা যাচ্ছে।

হেলালুদ্দিন আহমদ বলছেন, গুজব বা অপপ্রচার পাওয়া গেলে তারা চলমান আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি বলছেন, নির্বাচন কমিশন নিজে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নজরদারির একটি সেল তৈরি করেছে। তথ্য মন্ত্রণালয় আগে থেকেই কাজটি করছিলো। পুলিশের বাহিনীর সবগুলি ইউনিটে সাইবার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তৈরি করেছে একটি সোশাল মিডিয়া মনিটরিং অ্যান্ড সাইবার ক্রাইম প্রিভেনশন কমিটি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিগত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় থেকেই ‘ফেক নিউজ’ একটি আলোচিত শব্দবন্ধে পরিণত হয়েছে

নির্বাচন কমিশনের ভাষায় ঝুঁকিপূর্ণ কোন পোষ্ট, ফেক আইডি, ভুয়া খবর – এগুলো যাচাই করার ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বড় ভূমিকা পালন করবে।

পুলিশের গণমাধ্যমের দায়িত্বে থাকা এআইজি মোঃ: সোহেল রানা বলছেন, “নির্বাচন কেন্দ্রিক কিছু ট্রেন্ড এবং টেন্ডেন্সি আমাদের আছে, গুজব ছড়ানো এবং গুজব সৃষ্টির।”

তারা কিভাবে নির্ধারণ করছেন কোনটি গুজব বা অপপ্রচার? তিনি বলছেন, “আমাদের সেলগুলো নিয়মিত সাইবার পেট্রোলিং-এর কাজগুলো করে। আমাদের যে সোশাল মিডিয়া মনিটরিং অ্যান্ড সাইবার ক্রাইম প্রিভেনশন কমিটি আছে তাদের দৃষ্টিতে বিষয়গুলো আনা হয়। আসলেই এগুলো গুজব কিনা কমিটি তা যাচাই বাছাই করে এবং এই সিদ্ধান্ত দেয়। তারপর এটি নিয়ে কাজ করা হয়।”

কিন্তু এই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুমিন ফারহানা।