দেশের মাটিতে শেষ সিরিজ মাশরাফির?

দেশের মাটিতে শেষ সিরিজ মাশরাফির?
আগামী বছর ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলবেন, এরপরই অবসরে যাবেন মাশরাফি বিন মতুর্জা। গুঞ্জনটা শোনা যাচ্ছে অনেকদিন ধরেই। ওই গুঞ্জনটা যদি সত্যি হয়, সেক্ষেত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজটাই হবে দেশের মাটিতে তার শেষ সিরিজ। ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে আর কোনো ওয়ানডে ম্যাচ নেই বাংলাদেশের।

মাশরাফিও মৃদু একটা আভাস দিয়ে রেখেছেন, বিশ্বকাপের পরই রঙিন পোশাকের ক্রিকেট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেবেন। যদিও সরাসরি কিছু বলেননি। তবে রাজনীতিতে প্রবেশের প্রাপ্ত সুযোগটা শতভাগ কাজে লাগাতে চান, সেটা পরিষ্কার। আপাতত অবশ্য ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজেই মনোযোগ দিচ্ছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। ১৪ ডিসেম্বরের আগে ক্রিকেট ছাড়া আর কিছুই ভাবতে চাইছেন না তিনি।

এটাই কি ঘরের মাঠে শেষ সিরিজ? এমন প্রশ্নে উত্তরটা সরাসরি দেননি মাশরাফি, ‘২০১১ সাল থেকেই আমার ক্যারিয়ার অনিশ্চিত ছিল, কেউ বলতে পারতো না আমার ক্যারিয়ার আরও সাত-আট বছর চলবে, সেখান থেকে আমি আজও ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্বকাপের পর কী হবে সেটা আমি জানি না। এর আগে কথা ছিল ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পযর্ন্ত খেলব। এখনো ফিট আছি বিশ্বকাপ খেলব, বাকিটা সময় উত্তর দিবে।’

আর দশটা সিরিজের মতো করেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজকে দেখছেন মাশরাফি। ডানহাতি এ পেসার চান ঘরের মাঠে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে জিততে। যদিও তার চোখে কাজটি কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। অসম্ভব যে নয়, সেটা তো গেল জুলাই-আগস্টে প্রতিপক্ষের মাটিতে খেলে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেই বুঝিয়ে দিয়েছে টাইগাররা। এবার ঘরের মাঠে সিরিজ জিততে তাই আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী মাশরাফির দল।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নিবার্চনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তের পর মঙ্গলবারই প্রথম গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন মাশরাফি। সেখানেই তিনি জানিয়েছেন নিজের পরিকল্পনার কথা, ‘এখনো ক্রিকেট নিয়ে আছি। নিবার্চনের মাঠে নামিনি। আগামী ১৪ ডিসেম্বরের পর নিবার্চনের মাঠে নামব।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘অন্য যেকোনো সিরিজের মতোই এই সিরিজে চোখ থাকবে জয়ের দিকে।’

বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবেন মাশরাফি। এর কয়েকদিন পরই সফরকারীদের বিপক্ষে মূল লড়াই। সে সময়ে বা তা আগে সংবাদ সম্মেলনে যেন রাজনীতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন না শুনতে হয়, এ জন্যই মঙ্গলবার স্ব উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন করেন মাশরাফি। স্বভাবতই সেখানে নিবার্চন নিয়েই বেশি কথা বলেছেন তিনি।

মাশরাফি আগেভাগেই জানিয়ে রাখলেন, ‘আমি চাই না ম্যাচের আগের দিন ম্যাচ সংক্রান্ত প্রেস কনফারেন্সে আমাকে নিবার্চন বা রাজনীতি বিষয়ক কোনো প্রশ্ন করা হোক। যেহেতু সামনে ৬ তারিখে একটা অনুশীলন ম্যাচ ও পরে ৯ তারিখে প্রথম ওয়ানডে, তাই এ সময়ের মধ্যে আমাকে মিডিয়ার সামনে আসতেই হবে। তখন আমি চাই না ক্রিকেটের বাইরে কোনো কথা বলতে। আমি আজ এ ব্যাপারে (নিবার্চন) কথা বললেও ১৪ তারিখ অথার্ৎ সিরিজের শেষ ওয়ানডে পযর্ন্ত ক্রিকেটই আমার একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান।’

নিবার্চনের জন্য অনুপ্রাণিত হওয়ার বিষয়ে মাশরাফির মন্তব্য, ‘বিশ্বকাপ শুরু হতে আরও ৭/৮ মাস বাকি। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর নিবার্চন আসবে আরও সাড়ে ৪ বছর পর। এবারের নিবার্চন আমার কাছে সুযোগ। প্রধানমন্ত্রী আমাকে সুযোগ দিয়েছেন আমার এলাকার জন্য কিছু কাজ করার। আর সেটিই শতভাগ কাজে লাগাতে চাই।’

এতদিন মাশরাফি ছিলেন পুরো দেশের, এখন একটি দলের। স^াভাবিকভাবেই দেশের অধের্ক লোক তার বিপক্ষে। স্বাভাবিক বিষয়টাকে মাশরাফিও স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন, ‘এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে উদ্দেশ্য আমার ক্লিয়ার। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সেই সুযোগটা যদি পাই কাজ করব। আর আগেও বলেছি ওয়াল্ডর্ ক্রিকেটে আমি এমন কোনো সুপারস্টার না যে আমি যখন খেলা ছেড়ে দেব জনে জনে আমাকে মানুষ স্মরণ করবে।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে টুনাের্মন্ট শুরু হবে ৯ ডিসেম্বর। বাকি ম্যাচ দুটি ১১ ও ১৪ ডিসেম্বর। খেলা শেষ করেই নিবার্চনী এলাকায় যাবেন জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নিবার্চন হবে ৩০ ডিসেম্বর।